Published : 04 Aug 2026, 11:16 PM
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার একটি কারখানাকে নকল ব্র্যান্ডের আদলে আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই কারখানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে যে তারা অনুমোদনবিহীনভাবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মানচিহ্ন ব্যবহার করেছে এবং পণ্যে ক্ষতিকর রং, স্যাকারিন ও ফ্লেভার মিশিয়ে প্রতারণা করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলার চর সাটুরিয়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এই কারখানাটি স্থাপন করেন। সেখানে ‘মিল্ক ভিটার’-এর মতো দেখতে ‘মিল্ক মিটা’ নামে আইসক্রিম তৈরি করে খাদ্য উপাদানের সঠিক উল্লেখ না করে বাজারজাত করা হতো।
এসব নকল আইসক্রিম বিশেষত উপজেলার দুর্গম গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হতো, যা ভোক্তাদের মারাত্মকভাবে ঠকানোর শামিল ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অনিয়মগুলি প্রকাশ্যে আসার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে কারখানার মালিক সিরাজুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল, যেখানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোসা. রৌশন আরা বেগম এবং জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে অন্য একটি অভিযানে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার ‘লন্ডন ক্যাফে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট’-এ নজর দেওয়া হয়। সেখানেও অস্বাস্থ্যকর বাসি খাবার বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি দিয়ে বার্গার তৈরি এবং খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এই অপরাধে রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক কুদ্দুস মিয়াকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল আরও জানান, আইসক্রিম কারখানার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের নকল ব্যবহার ও মান নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন এবং রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মোট ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে এমন অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।।